Ticker

6/recent/ticker-posts

ইন্টার্ভিউ অভিজ্ঞতা / "কর্পোরেট_ফ্যাক্ট_৩০"

এক টি ইন্টার্ভিউ অভিজ্ঞতা

এক ফ্যাক্টরিতে চাকুরিরত অবস্থায় আরেক ফ্যাক্টরিতে ইন্টার্ভিউ দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকের লেখা। ইন্টার্ভিউয়ের অভিজ্ঞতা কেন শেয়ার করছি এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পুরো ঘটনা বর্ণনা করার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুসারে কোন পদক্ষেপটা সঠিক ছিল এবং কোনটা সঠিক ছিল না সেটাও উল্লেখ করব ইন-শা-আল্লাহ।



একজন পরিচিত কলিগের থ্রুতে সরাসরি ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজারের হোয়াটস এপে সিভি দিয়েছিলাম। লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে সিভি সেন্ড করলাম এবং দুপুর তিন/চারটার দিকে ইন্টার্ভিউয়ের জন্য কল আসল। কল করে জিজ্ঞাস করল, "আপনি কি আগামীকাল সকাল দশটায় আমাদের ফ্যাক্টরিতে ইন্টার্ভিউয়ের জন্য আসতে পারবেন?"  
আমি প্রথমে বললাম যে, "এত শর্ট নোটিসে আমার পক্ষেতো ইন্টার্ভিউ এটেন্ড করা সম্ভব নয়। আপনি আগামী বুধবার করুন। " তারা উত্তর দিল, " ঠিক আছে আমরা আলোচনা করা জানাচ্ছি আপনাকে।" 

যথারীতি রাতে ম্যাসেজ আসল আমার নির্ধারিত তারিখেই তারা ইন্টার্ভিউ আয়োজন করবে। ইন্টার্ভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলাম। পূর্বের সকল নোট, পজিশন অনুসারে কিছু স্টাডি এবং পরিশেষে অন্য এক কলিগের মাধ্যমে ফ্যাক্টরির অবস্থা যাচাই করলাম। ম্যানেজার পজিশনের আবেদন তাই কিছুটা টেকনিক্যাল প্রশ্নের উত্তর নিয়েও স্টাডি করেছিলাম। যথারিতী নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগেই ফ্যাক্টরিতে উপস্থিত হলাম। প্রথমে সিকিউরিটি গেট সংলগ্ন রুমেই বসতে দিল এবং পরবর্তীতে দুই তলার এইচ আরের একটা রুমে বসাল। দুঃখের বিষয় হচ্ছে লিখিত পরীক্ষার জন্য মার্চেন্ডাইজিং রুমে বসতে দিল। অর্থাৎ মিটিং রুম বা ইন্টার্ভিউ নিবে এরকম কোন রুম হয়তো তারা আলাদাভাবে রাখেনি। 

তিনজন ক্যান্ডিডেট এসেছিল এই পজিশনের জন্য। কিন্তু আমি কনফিডেন্স ছিলাম যে, আমার পরীক্ষা সবচেয়ে ভাল হয়েছে। আমার ধারনাই ঠিক হলো। আমার রিটেন বাকী দুইজনের তুলনায় ভাল হয়েছিল সেটা ভাইভাতে বুঝতে পারলাম। ভাইভাতে খুব কনফিডেন্সের সাথে উত্তর দিলাম প্রতিটি প্রশ্নের। এসএমভি বের করতে দিল ফেব্রিক স্প্রেডিং প্রসেসের। কিন্তু ম্যানেজার হয়তো বুঝেনি যে, আমি রুট লেভেল থেকেই এইসব কাজ করে এই পজিশনে এসেছি। তাই ম্যানেজার স্প্রেডিং এসএমভি বের করার জন্য যে কিছু ফ্যাক্টর আগে ডিফাইন করে দিতে হয় সেটা বুঝেননি। তাই আমিই আস্ক করলাম, "সেড সেপারেটর ইউজ করব কিনা? ফ্যাব্রিকের টাইপোলোজি কি হবে? কতগুলো লে কনসিডার করব?" ইত্যাদি। যাইহোক ম্যাথ করছিলাম এবং ফ্যাক্টরগুলো জিজ্ঞাস করছিলাম তখনই বুঝে ফেলেছে আমি এই পজিশনের জন্য উপযুক্ত। ম্যাথ শেষ করার আগেই উনি ফ্যাক্টরির সুবিধা বলতে শুরু করলেন। 

তারমানে আমার রিটেন এবং ভাইভা সফল এখন স্যালারি নেগোসিয়েশনের পালা। আমার এক্সপেক্টেড স্যালারি বললাম। উনি বললেন যে, আপনি এখন যা পান সেটার সাথে অনেক পার্থক্য। আমি বললাম যে, If I am capable why you can't offer?
যাইহোক আমি যেটা বললাম সেই এমাউন্টেই উনি আমাকে এইচ আর হেডের কাছে পাঠালেন। এইচ হেডের প্রথম প্রশ্নই ছিল, আপনি কেন জব সুইচ করতে চান? আমি একেবারে সঠিক কারনটাই বললাম। উনি খুশী হলেন এবং স্যালারি নিয়ে কিছুক্ষন নেগোসিয়েট করার চেষ্টা করলেন। যেহেতু বল আমার কোর্টে তাই আমি আমার জায়গায় স্ট্রিক্ট থাকলাম। 

 এই ইন্টার্ভিউ অভিজ্ঞতা থেকে কিছু আউটকাম বের করি চলুন।

১. ইন্টার্ভিউ এর টাইম। অনেক ফ্যাক্টরি এই কাজটা করে। সিভি পাওয়ার সাথে সাথে ইন্টার্ভিউ কল করে। সন্ধ্যায় কল করে পরেরদিন এটেন্ড করতে বলে। প্রাইভেট সেক্টরে হুট করে ছুটি ম্যানেজ করা কিরকম প্যারাদায়ক এটা আমরা সবাই জানি। তাই ইন্টার্ভিউয়ারের উচিৎ মিনিমাম এক বা দুই দিনের টাইম গ্যাপ রাখা। ক্যান্ডিডেটেরও উচিৎ টাইম নিয়ে অবজেকশন জানানো। 

২. নিজের নলেজের উপর কনফিডেন্ট থাকা। প্রশ্নকর্তার মুল উদ্দেশ্য থাকে আপনি কোন প্রশ্নের উত্তর পারেন না সেটা খুঁজে বের করা এবং আপনাকে নার্ভাস করে দেওয়া। আপনার কনফিডেন্ট লেভেল লো করে দেওয়া। 

৩. আপনি যদি ইতোমধ্যে ভাল একটা স্যালারি হোল্ড করে থাকেন ,শুধুমাত্র ফ্যাক্টরি চেঞ্জ করতে চান বা ওয়ার্কিং এনভাইরনমেন্ট চেঞ্জ করতে চান তবে বর্তমান স্যালারির চেয়ে মিনিমাম ৩০% বেশী ডিমান্ড করুন। 

৪. স্যালারি, জব চেঞ্জ করার কারন, বর্তমান ফ্যাক্টরির সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে কখনও মিথ্যা কথা বলবেননা। বর্তমানে এই বিষয়গুলোতে কম বেশী সবাই মিথ্যা কথা বলে। চাকরীতে জয়েন করার পর এটার বড় ইমপ্যাক্ট পরে।

৫. নোটিস পিরিয়ড দিবেন বর্তমান ফ্যাক্টরির পলিসি অনুসারে। নতুন ফ্যাক্টরি আপনাকে যত দ্রুত পারেন জয়েন করার কথা বলবে। অনেককে এই ইস্যুতে এসে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে দেখা যায়। অনেকে নিজ ফ্যাক্টরি পলিসি জানা স্বত্বেও রিস্ক নিয়ে ফেলেন যে, বর্তমান বসকে ম্যানেজ করে ফেলবে কিন্তু পরবর্তীতে আর ম্যানেজ করতে পারেননা।



*লেখক স্বত্ত্বঃ- Mamun Rezwan

*রিক্যাপ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত

Post a Comment

0 Comments